কোনো সরকারি সহায়তা ছাড়াই স্বেচ্ছা শ্রম দিয়ে নির্মিত হলো সেই বাঁশের সাঁকো

নিজস্ব প্রতিবেদক: (প্রকাশের তারিখ: 25-Oct-2022)
আব্দুল্লাহ বাশার, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি।

কোনো সরকারি সহায়তা না পেয়ে এক মাস পর আবারও স্বেচ্ছা শ্রম আর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী চিত্রা নদের উপর সেই বাঁশের সাঁকো। সাঁকো হওয়ায় খুশি ছাত্র/ছাত্রী সহ এলাকাবাসী। তবে স্থায়ী সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুতি,দূর্গাপুর,হাজিডাঙ্গা,গোপালপুর,সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে এপারে। আর ওপারে রয়েছে তালসার,কুশনা,কামারকুন্ড,শেরখালী গ্রাম।

যার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে চিত্রা নদটি। এর উপর ২০০৭ সালে স্বেচ্ছা শ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মান করা হয়। এতে করে সংযোগ সৃষ্টি হয় দুই উপজেলার মধ্যে।প্রতিষ্টিত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা।
বিশেষ করে তালসার গ্রামের সঙ্গে সংযোগ হওয়ায় উপকৃত হয়েছিল নদের এপারের মানুষ। কারন ওপারে রয়েছে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,একটি বাজার। ওই সব প্রতিষ্টানে এপার থেকে ৪০/৫০ জন ছেলে মেয়ে লেখা-পড়া করতে যান। এ ছাড়া এ পারের মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের প্রয়োজন মেটাতে তালসার বাজার যান।
সম্প্রতি সাঁকোটি ভেঙ্গে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েন গ্রামবাসী সহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা। গেল এক মাস তারা অনেক কস্টো করে চলাফেরা করছিল। আশা করছিল সরকারি সহায়তার। অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে শনিবার এপার আর -ওপারের মানুষের স্বেচ্ছা শ্রম আর নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকোটির নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন তারা।তবে সংশ্লিষ্টদের নিকট স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সুতি গ্রামের অসিত বিশ্বাস বলেন,আবারও স্বেচ্ছা শ্রম ও নিজেদের অর্থে সাঁকো নির্মান করা হয়েছে। সাঁকো নির্মানে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলা যায়।
তিনি বলেন,যদি বাঁশ ও লেবার খরচ ধরা হয়,তাহলে ৩ টাকা লাগবে। এভাবে নির্মাণ করলে ১ বছর খুব ভাল ভাবে চলে। পরের বছর আবার জোড়াতালি দিতে হয়। সাঁকো তৈরীতে তালসার গ্রামের ইউপি সদস্য হাবু ভুইয়া ও জাহিদ হোসেন কিছু টাকা সহায়তা করেছেন। তবে আমাদের এপারের কোন মেম্বর, চেয়ারম্যান কোন সহায়তা করেননি।

তিনি আরো বলেন,এ ভাবে দুই এক বছর পর সাঁকো ভেঙ্গে পড়ে। ওই সময় বিপাকে পড়তে হয় সবার। এ কারনে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্টদের নিকট এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবী করেছেন।
এ ব্যাপারে সুতি গ্রামের কলেজ পড়ুয়া মানিক মিয়া বলেন, এক মাস পর সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় খুশি লাগছে। তবে এ খুশি তো আমাদের জন্য সাময়িক। কারন বছর যেতে না যেতেই আবার ভেঙ্গে পড়বে। আবার সৃষ্টি হবে আমাদের ভোগান্তি।
সাঁকো হওয়ায় উচ্ছ্বসিত তালসার জিটি কলেজের ছাত্রী পপি আক্তার ও রিংকি খাতুন। তারা বলেন,সাময়িক ভাবে হলেও সাঁকোটি পূননির্মিত হওয়ায় আমরা চিন্তা মুক্ত হয়েছি। কারন সাঁকোটি ভেঙ্গে পড়ায় আমাদের লেখা পড়া প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছিল।
তারা বলেন, শুধু আমরা না। এপারের দুই গ্রামের প্রায় ৪০/৫০ জন ছাত্র ছাত্রী ওপারে কলেজ আর স্কুলে লেখা পড়া করেন। সবায় আজ খুশি। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা ও।
বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, সাঁকোটি তারা নিজ উদ্যেগে পুননির্মাণ করেছেন। এটা আমি জেনেছি। এরপরও আমি এলাকাটি পরিদর্শন করবো। যদি সরকারি ভাবে কোন সহায়তা করা যায়, কিনা সেটা দেখবো।

এই বিভাগের আরো খবর